
ঝালকাঠির রাজাপুরে ভোট আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জামায়াত প্রার্থী ফয়জুল হককে শোকজ
ঝালকাঠির
রাজাপুর-কাঠালিয়া আসনের (ঝালকাঠি-১) জামায়াতের প্রার্থী
ফয়জুল হককে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি শনিবার সংবাদ মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।
শোকজ
প্রদান করা হয়েছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে, যেখানে প্রার্থী ফয়জুল হক নির্বাচনী প্রচারণার
সময় বলেন, “বিড়িতে
সুখ টানার মধ্যেও দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাওয়ার জন্য আল্লাহ মাফ করে দিতে পারেন।” এই মন্তব্যকে নির্বাচন
সংক্রান্ত আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
নোটিশটি
প্রদান করেছেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া)
আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির
প্রধান, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ
দ্বিতীয় আদালতের বিচারক রেজওয়ানা আফরিন। কমিটির সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নোটিশ দেওয়া হয়।
নোটিশে
প্রার্থীকে তার মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিখিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কমিশন প্রার্থীকে শোকজ দেয়ার পাশাপাশি জরিমানা বা নির্বাচনী প্রচারণা
সীমিত করার ব্যবস্থা নিতে পারে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজাপুরের রাজনৈতিক মহল বলছে, ভোটপ্রার্থীদের সতর্কভাবে আচরণ করতে হবে যাতে নির্বাচনী পরিবেশে কোনও ধরনের বিতর্ক বা বিভ্রান্তি না সৃষ্টি হয়।
নোটিশ অনুযায়ী, ফয়জুল হককে ১২
জানুয়ারি
সোমবার
সশরীরে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির
প্রধানের কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৭
জানুয়ারি
বুধবার
রাজাপুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচনী উঠানবৈঠকে তিনি জনসমক্ষে বলেন,
“আমার
ভাই হয়তো কোনো দিনই ইবাদত করার সুযোগ পাননি, ওই সুখটান দেওয়া
বিড়ির মধ্যেও যদি সে ওই দাঁড়িপাল্লার
দাওয়াত দিয়ে আল্লাহর দ্বারে কবুল হয়ে যায়, এমনও হতে পারে পেছনের সব মাফ করে
দিয়ে আল্লাহ তাকে ভালো করে দিতে পারে।”
এই
বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর কমিটির দৃষ্টি
আকর্ষণ করে।
নোটিশে
আরও বলা হয়, এই ধরনের বক্তব্য
ত্রয়োদশ
জাতীয়
সংসদ
নির্বাচন
২০২৬-এর নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, বিশেষত—
·
বিধি ১৫ (উপবিধি ক): নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বা ধর্মকে ব্যবহার
করে ভোট প্রার্থনা করা,
·
বিধি ১৬ (উপবিধি ঙ): সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির
অপব্যবহার, এবং
·
বিধি ১৮: নির্দিষ্ট সময়ের আগে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো।
এই
কারণে নির্বাচন কমিশন ফয়জুল হকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত শুরু করেছে।
এই
বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হক বলেন,
“আমার
বক্তব্যটি মিসলিড হয়েছে। একজন প্রার্থী হিসেবে সব শ্রেণি-পেশার
মানুষের উদ্দেশে কথা বলতে হয়। সমাজে দাড়িওয়ালা, দাড়ি ছাড়া, বিড়ি বা সিগারেট খান
এমন মানুষও আছেন। আমি বিশেষ করে দোকানে বসে বিড়ি খাওয়া মানুষদের উদ্দেশে বলেছি—আপনারা বিড়ি টানতে টানতেই দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইবেন। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সঠিক সময়ে নোটিশের জবাব দিতে প্রস্তুত।”
ফয়জুল হকের এই প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যাচ্ছে, তিনি নিজের বক্তব্যকে ব্যক্তিগত উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন এবং আইন মেনে নোটিশের উত্তর দেবার প্রস্তুতি জানিয়েছেন।