1 1
প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বাংলাদেশকে বের করে আনার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন দেশকে বিভক্তির পথে ঠেলে না দেয়, সে
বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
আজ শনিবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম অনুষ্ঠানে এসে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি হিংসা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে চায়।
·
তিনি
বলেন, তাঁর এক পাশে ১৯৮১
সালের একটি জানাজা, অন্য পাশে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের জানাজা
এবং তৃতীয় পাশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা
রয়েছে।
·
এসব
ঘটনা সামনে রাখলে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
·
দেশ
যে মূল্য দিয়েছে, বিশেষ করে ৫ আগস্টের ঘটনা,
তা রাজনীতিকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে বলে জানান তারেক রহমান।
·
সব
রাজনৈতিক পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান বিএনপির চেয়ারম্যান।
·
তিনি
বলেন, মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তা যেন কোনোভাবেই
মতবিভেদ বা জাতিকে বিভক্ত
করার পর্যায়ে না যায়।
·
৫
আগস্টের ঘটনায় এর ভয়াবহ পরিণতি
দেশ দেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নতুন প্রজন্ম আশার খোঁজে আছে এবং সব প্রজন্মই একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করছে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
সাংবাদিকদের গঠনমূলক ভূমিকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সমালোচনা প্রয়োজন। তবে শুধু সমালোচনার জন্য সমালোচনা নয়—এমন সমালোচনা চাই, যা দেশের সমস্যার সমাধানে সহায়ক হয়।’
দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর কয়েকটি স্থানে যাওয়ার সুযোগ পান বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব না হলেও রাষ্ট্রকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া তাঁদের মূল দায়িত্ব।
স্বাস্থ্য
খাতে ব্যয় কমানোর বিষয়ে প্রিভেনশন বা প্রতিরোধমূলক মডেল
অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, মানুষকে সচেতন করা গেলে—কোন ধরনের খাবার পরিহার করলে কিডনি, হৃদ্রোগ বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি
কমে—তাহলে একদিকে রাষ্ট্রের ব্যয় হ্রাস পাবে, অন্যদিকে মানুষ সুস্থ থাকবে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্যকর্মী
নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে
অংশ নেন যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, দৈনিক নিউ এজ-এর সম্পাদক
নূরুল কবীর, কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ, যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম
বাহাউদ্দীন, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিরা।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন