1 1
মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত টেকনাফের এক শিশুকে আশঙ্কাজনক
অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ)তে ভর্তি করা
হয়েছে। বর্তমানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
আহত
শিশুটির নাম হুজাইফা আফনান (৯)। সে
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের মেয়ে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ জানান, শিশুটির মুখের এক পাশ দিয়ে গুলি প্রবেশ করে মস্তিষ্কে আঘাত করেছে। এর ফলে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা হয়েছে শিশুটিকে।
·
চট্টগ্রাম
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনার পরপরই গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ)তে নেওয়া হয়।
·
পুলিশ
ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক নুরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
·
আজ
সকাল ৯টার দিকে মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে আহত হয় তৃতীয় শ্রেণির
শিক্ষার্থী হুজাইফা।
·
আহত
শিশুটির নাম হুজাইফা আফনান (৯)।
·
কক্সবাজারের
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস আজ দুপুর আড়াইটার
দিকে প্রথম আলোকে জানান, শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
·
তিনি
বলেন, শিশুটি মারা গেছে—এমন খবর সঠিক নয়।
·
গুলিবিদ্ধ
অবস্থায় শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।

এর আগে মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে আহত শিশুটির মৃত্যু হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) খোকন চন্দ্র রুদ্র প্রথম আলোকে এ ধরনের তথ্য
দিয়েছিলেন। এ খবর ছড়িয়ে
পড়ার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়
বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ করেন, ফলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এদিকে
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। সেখানে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টার শেল নিক্ষেপ ও বোমা বিস্ফোরণ
থামছেই না। গত তিন দিন
ধরে রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপ ও আশপাশের এলাকায়
সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থান লক্ষ্য করে সরকারি জান্তা বাহিনী বিমান হামলা জোরদার করেছে।
অন্যদিকে
আরাকান আর্মির সঙ্গে স্থলভাগে সংঘর্ষে জড়িয়েছে রোহিঙ্গাদের তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। এতে সীমান্ত পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। ওপার থেকে ভেসে আসা বিকট বিস্ফোরণের শব্দে টেকনাফের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো কেঁপে উঠছে। মিয়ানমারের দিক থেকে ছোড়া গুলি এসে পড়ছে এপারের মানুষের ঘরবাড়ি, চিংড়িঘের এবং নাফ নদীতে।
সর্বশেষ
গতকাল শনিবার সন্ধ্যা থেকে আজ সকাল সাড়ে
৯টা পর্যন্ত টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের বিপরীতে রাখাইন রাজ্যের বলিবাজার এলাকায় থেমে থেমে ব্যাপক গোলাগুলি ও মর্টার শেলের
বিস্ফোরণ ঘটেছে। এসব বিকট শব্দের বিস্ফোরণে টেকনাফের হোয়াইক্যং ও উখিয়ার পালংখালী
ইউনিয়নের অন্তত ১১টি গ্রাম কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে লোকজন রাত জেগে সময় পার করেন, অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।
পরিস্থিতির অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে নাফ নদী ও স্থলসীমান্তে নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ড।
মন্তব্য করুন