1 1
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। এর বাইরে উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করছেন বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ। কেউ নীরবে প্রার্থনায় মগ্ন, আবার কেউ ফুঁপিয়ে কাঁদছেন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ৯ বছরের শিশু হুজাইফা আফনানের খোঁজ জানতেই তাঁদের এই প্রতীক্ষা।
গতকাল রোববার রাত আটটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর আইসিইউ থেকে বেরিয়ে আসেন শিশুটির চাচা মোহাম্মদ এরশাদ। ক্লান্ত মুখ আর বিমর্ষ চোখে তিনি বাইরে অপেক্ষমান স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। জানান, হুজাইফা আফনানের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও স্বজনদের জানান তিনি।
গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয় ৯ বছরের শিশু হুজাইফা। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। রাতের দিকে আইসিইউর চিকিৎসকেরা জানান, গুলিটি হুজাইফার মাথা ভেদ করে মস্তিষ্কে প্রবেশ করেছে।
এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টার শেল নিক্ষেপ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা থামছেই না। গত তিন দিন ধরে রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপ ও আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থান লক্ষ্য করে সরকারি জান্তা বাহিনী বিমান হামলা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে আরাকান আর্মির সঙ্গে স্থলভাগে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গাদের অন্তত তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠী।
এই সংঘাতের প্রভাবে সীমান্ত পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। ওপারের বিকট বিস্ফোরণে সীমান্তবর্তী টেকনাফের বিভিন্ন গ্রাম কেঁপে উঠছে। পাশাপাশি সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলি এসে পড়ছে এপারের লোকজনের বসতঘর, চিংড়িঘের ও নাফ নদীতে, যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
হুজাইফার চাচা মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, শনিবার সারা রাত গোলাগুলির শব্দে এলাকাবাসী আতঙ্কে ছিল। তাঁরাও ঘরের ভেতরেই অবস্থান করেন। রোববার সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হওয়ায় তিনি ঘর থেকে বের হন। কিছুক্ষণ পর তাঁর ভাতিজি হুজাইফাও খেলতে বের হয়। একপর্যায়ে সে সড়কের কাছাকাছি চলে এলে হঠাৎ সীমান্তের ওপারে আবার গোলাগুলি শুরু হয়। তখন একটি গুলি হুজাইফার মুখের পাশ দিয়ে ঢুকে মাথায় লাগে।
এদিকে আজ সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ভোর চারটা পর্যন্ত শিশুটির অস্ত্রোপচার চলে। তবে গুলিটি বের করা হয়নি। কারণ, সেটি মস্তিষ্কে অবস্থান করছে এবং অপসারণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। তবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মস্তিষ্কের চাপ কমানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন